হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায়
হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায়
হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায় জানতে হলে প্রথমেই বুঝতে হবে আপনার আইডিটি কেন হারিয়েছে- পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া নাকি ভেরিফিকেশন সমস্যার কারণে। সঠিক ইমেইল, ফোন নাম্বার ও পরিচয় পত্র ব্যবহার করে ফেসবুকের রিকভারি অপশন অনুসরণ করলে দ্রুত সমাধান পাওয়া যায়। ধৈর্য ধরে প্রতিটি ধাপ ঠিকভাবে পূরণ করাই সফলতার মূল চাবিকাঠি।
পেজ সূচিপত্র : হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার সমাধান
- ফেসবুক আইডি সমস্যার পরিচিতি ও গুরুত্ব
- ফেসবুক আইডি হারানোর সাধারণ কারণ
- পাসওয়ার্ড ভূলে গেলে আইডি ফিরে পাওয়ার উপায়
- হ্যাক হওয়া ফেসবুক আইডি উদ্ধার করার উপায়
- মোবাইল নাম্বার ছাড়া ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায়
- ইমেইল ছাড়া ফেসবুক আইডি উদ্ধার করার কৌশল
- ফেসবুক আইডি লক হলে করণীয়
- জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে ফেসবুক আইডি ফেরত আনা
- ভবিষ্যতে ফেসবুক আইডি হারানো থেকে বাঁচার উপায়
- শেষ কথা : ফেসবুক আইডি সব সময় নিরাপদ রাখা
হারানো ফেসবুক আইডির সমস্যার পরিচিতি ও গুরুত্ব
হারানো ফেসবুক আইডি বর্তমানে একটি খুবই সাধারণ কিন্তু ভীষণ উদ্বেগ জনক সমস্যা। অনেকেই ব্যক্তিগত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ,ব্যবসায়িক পেজ এবং যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক আইডির উপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে আইডিতে ঢুকতে না পারলে মানসিক চাপ তৈরি হয় এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারানোর ভয় দেখা দেয়। পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া, হ্যাক হওয়া বা ফেসবুকে নিরাপত্তা জনিত কারণে আইডি লক হয়ে যাওয়ায় মূলত এই সমস্যার প্রধান কারণ।
এই কনটেন্টে ধাপে ধাপে দেখানো হবে কিভাবে হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায় জানা ও প্রয়োগ করা যায়। এখানে একেবারে সাধারণ ভাষায় বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সমাধান গুলো তুলে ধরা হয়েছে যাতে নতুন ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ ইউজার সবাই উপকৃত হতে পারেন। সঠিক নিয়ম মেনে চেষ্টা করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইডি ফিরে পাওয়া সম্ভব।
ফেসবুক আইডি হারানোর সাধারণ কারণ
ফেসবুক আইডি হারানোর পিছনের সবচেয়ে সাধারণ কারণ গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নিজের লগইন তত্ত্ব ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা অনেকেই পাসওয়ার্ড ভুলে যান বা ইমেইল ও মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করে আপডেট করতে ভুলে যান এটা দিয়ে ডিভাইস থেকে লগইন করলে বা পাবলিক কম্পিউটার ব্যবহার করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে ফিশিং লিংকে ক্লিক করা ভুয়া অ্যাপে অনুমতি দেওয়া কিংবা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়া আইডি হ্যাক এর কারণ হতে পারে আবার যাচাই করুন চালু না রাখলেও আইডি সহজেই বেদখল হয়ে যায়।
আরেকটি বড় কারণ হলো ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গ করা। অজান্তেই কপিরাইট যুক্ত শেয়ার করা, অতিরিক্ত স্প্যাম পোস্ট বা রিপোর্টেড কন্টেন্ট দিলে আইডি লক হতে পারে। ভুয়া নাম বা ভুল জন্ম তারিখ ব্যবহার করলেও ফেসবুক আইডি যাচাইয়ের সময় সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন আইডি ব্যবহার না করলে বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ ধরা পড়লে ফেসবুক নিরাপত্তার কারণে আইডি বন্ধ করতে পারে। এসব কারণে অনেক সময় ব্যবহারকারী হঠাৎ করেই নিজের ফেসবুক আইডি হারিয়ে ফেলেন।
পাসওয়ার্ড ভূলে গেলে আইডি ফিরে পাওয়ার উপায়
পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে অনেকে ভাবেন আইডি হয়তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা কঠিন নয়। যে কোন সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন আইডিতে সাধারণত ফরগেট পাসওয়ার্ড বা পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন অপশন থাকে, যেখান থেকে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।সেখানে আপনার রেজিস্টার করা মোবাইল নম্বর বা ইমেইল দিলে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হয়। সেই কোড সঠিকভাবে দিলে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করার সুযোগ পাওয়া যায়।এভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই আইডিতে আবার প্রবেশ করা সম্ভব হয়। তবে অবশ্যই আপনার দেওয়া তথ্য যেন সঠিক ও সক্রিয় থাকে। সেটি নিশ্চিত করা জরুরী।
অনেক সময় পুরনো নাম্বার বা ইমেইল অ্যাক্সেসে না থাকলে সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আইডি রিকভারি ফর্ম পূরণ করে নিজের পরিচয় যাচাই করতে হয়। জাতীয় পরিচয় পত্র, প্রোফাইলের পুরনো তথ্য বা পরিচিত ডিভাইস ব্যবহার করলে ভেরিফিকেশন সহজ হয়। ধৈর্য ধরে ধাপগুলো অনুসরণ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আইডি ফিরে পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে এমন সমস্যা এড়াতে নিয়মিত পাসওয়ার্ড আপডেট রাখা ও সিকিউরিটি অপশন চালু রাখা সবচেয়ে ভালো সমাধান।
আরও পড়ুন: করসোল পাতা খাওয়ার উপকারিতা
হ্যাক হওয়া ফেসবুক আইডি উদ্ধার করার উপায়
হ্যাক হওয়া ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার জন্য প্রথমে শান্ত থাকা খুব জরুরী। অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে ভূল সিদ্ধান্ত নিলে সমস্যাটি আরো বড় হতে পারে। যদি দেখেন আপনার আইডিতে লগইন করা যাচ্ছে না বা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন হয়ে গেছে তাহলে দ্রুত ফেসবুকের ফরগেট পাসওয়ার্ড অপশন ব্যবহার করুন। সেখানে আপনার ইমেইল বা মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফিকেশন করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে Someone else got into my account অপশন সিলেক্ট করে ফেসবুক কে জানাতে হবে যে আপনার একাউন্ট হ্যাক হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে ফেসবুকের Account Recovery ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে নিজের জাতীয় পরিচয় পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরিষ্কার ছবি আপলোড করতে হতে পারে, যাতে ফেসবুক আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারে। তথ্য দেওয়ার সময় কোন ভুল না করে ধৈর্যসহকারে সব নির্দেশনা অনুসরণ করুন। যাতে সাধারণত কয়েকদিনের মধ্যেই ফেসবুক ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেয় একাউন্ট ফেরত পাওয়া যাবে কিনা। সঠিক নিয়ম মেনে চেষ্টা করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হ্যাক হওয়া ফেসবুক আইডি আবার উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
মোবাইল নাম্বার ছাড়া ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায়
মোবাইল নাম্বার ছাড়া ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়া অনেকের কাছে কঠিন মনে হলেও সঠিক পদ্ধতি জানলে এটি সম্ভব। প্রথমে ফেসবুকের অফিসিয়াল "Forgotten Password" অপশনে যেতে হবে এবং সেখানে আপনার ইমেইল এড্রেস অথবা ইউজার নেম ব্যবহার করতে হবে। যদি আইডির সাথে আগে কোন ইমেল যুক্ত থাকে তাহলে সেই ইমেইলের মাধ্যমে রিসেট লিংক পাওয়ার সুযোগ থাকে। অনেক সময় পুরনো ইমেল ব্যবহারকারীরা ভুলে যান, তাই সম্ভাব্য সব ইমেল চেক করা জরুরী।
ইমেইলে পাঠানো কোড বা লিংক এর মাধ্যমে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করা যায়। যদি ইমেইলে এক্সেস না থাকে, তবে "No longer have access to these?" অপশনটি বেছে নিতে হবে। এই ধাপে ফেসবুক পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কিছু তথ্য চাইতে পারে। সঠিক তথ্য দিলে আইডি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। ধৈর্য ধরে প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, মোবাইল নাম্বার ছাড়া আইডি উদ্ধার করতে ফেসবুকের আইডি ভেরিফিকেশন ফর্ম বড় ভূমিকা রাখে। এই ফর্মে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট এর ছবি আপলোড করতে হতে পারে। অবশ্যই ছবিটি পরিষ্কার ও তথ্য পাঠযোগ্য হতে হব।
ফর্ম সাবমিট করার পর ফেসবুক টিম বিষয়টি পর্যালোচনা করে। সাধারণত কয়েকদিন সময় লাগতে পারে, তাই বারবার ফোন সাবমিট না করাই ভালো। এ সময় কোন ভুয়া লিংক বা তৃতীয় পক্ষের সাইট থেকে সাহায্য নেওয়া উচিত নয়। কারণ এতে আইডি আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ভবিষ্যতে যেন এমন সমস্যা না হয়, সেজন্য ইমেল আপডেট রাখা জরুরী। পাশাপাশি দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু করলে আইডি আরও সুরক্ষিত থাকে। সচেতন থাকলেই ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখা সম্ভব।
আরও পড়ুন: সকালে ডিম খাওয়া অনেক উপকার
ইমেইল ছাড়া ফেসবুক আইডি উদ্ধার করার কৌশল
ফেসবুক আইডির সাথে ইমেইল না থাকলেও সেটি উদ্ধার করা একেবারে অসম্ভব নয়। অনেক সময় আইডি খোলার সময় শুধু মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করা হয়, যা দিয়েই পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করা। ফেসবুক লগইন পেজে গিয়ে "Forgot Password" অপশনে ক্লিক করে মোবাইল নাম্বার দিলে ভেরিফিকেশন কোড পাওয়া যায়। সেই কোড ব্যবহার করে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করলে আইডিতে আবার প্রবেশ করা সম্ভব হয়। এছাড়া আগে লগইন করা ডিভাইস বা ব্রাউজার থেকেও ফেসবুক আইডি শনাক্ত করতে সাহায্য করে। প্রোফাইলের নাম বন্ধুদের নাম ও পুরনো তথ্য সঠিকভাবে দিলে ফেসবুক আপনার পরিচয় যাচাই করে।
যদি মোবাইল নাম্বারও এক্স শেষে না থাকে তাহলে ফেসবুকের "Identify Your Account" অপশনটি ব্যবহার করা যায়। এখানে নিজের নাম লিখে সার্চ করলে আইডি খুঁজে পাওয়ার সুযোগ থাকে। প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয় পত্র বা পরিচয় এর ডকুমেন্ট সাবমিট করার অপশনও দেয় ফেসবুক। বন্ধুদের সাহায্যে আইডি রিপোর্ট করেও রিকভারি প্রসেস দ্রুত করা যায়। অনেক সময় সাপোর্ট ইনবক্সে ফেসবুক থেকে নির্দেশনা পাঠানো হয়, সেগুলো ভালোভাবে অনুসরণ করা দরকার। কোন তাড়াহুড়ো না করে সঠিক তথ্য দিলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। নিরাপত্তার জন্য ভবিষ্যতে ইমেল যুক্ত করে রাখলে এমন ঝামেলা এড়ানো যায়।
ফেসবুক আইডি লক হলে করনীয়
ফেসবুক আইডি হঠাৎ লক হয়ে গেলে প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। সাধারণত সন্দেহজনক লগইন, নীতিমালা ভঙ্গ বা অতিরিক্ত কার্যকলাপের কারণে আইডি লক হয়। এই অবস্থায় ফেসবুক যে নোটিফিকেশন বা নির্দেশনা দেয়, তা মনোযোগ দিয়ে পড়া খুব জরুরী। আইডি আনলক করার জন্য ভেরিফিকেশন অপশন এলে সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয় পত্র বা পরিচয় নিশ্চিত কারী ডকুমেন্ট আপলোড করতে হতে পারে। ইমেইল বা মোবাইল নম্বর সক্রিয় থাকলে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সহজ হয়। কখনো ভুয়া তথ্য ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে আইডি স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফেসবুকের নির্দিষ্ট লিংক ব্যবহার করেই রিকভারি করতে হবে।
আইডি লক হওয়ার পর ভবিষ্যতে যাতে এমন সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অজানা ডিভাইস বা পাবলিক ওয়াইফাই থেকে লগইন এড়িয়ে চলাই ভালো। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং নিয়মিত পরিবর্তন করা উচিত। টু ফেক্টর অথেনটিকেশন চালু করলে নিরাপত্তা আরো বাড়ে। অপরিচিত লিংক বা অ্যাপে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অতিরিক্ত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো বা অস্বাভাবিক অ্যাক্টিভিটি করা ঝুঁকিপূর্ণ। ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত লগইন এলার্ট চেক করা উচিত। নিরাপদ ব্যবহারে আইডি লক হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। সচেতন থাকলেই ফেসবুক আইডি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
আরও পড়ুন: ইমেইল পাসওয়ার্ড ভূলে গেলে করণীয়
জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে ফেসবুক আইডি ফেরত আনা
জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে ফেসবুক আইডি ফেরত আনা বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক সময় হ্যাক, ভুল রিপোর্ট বা সিকিউরিটি সমস্যার কারণে ফেসবুক আইডি লক হয়ে যায়। এমন অবস্থায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করার জন্য জাতীয় পরিচয় পত্র চেয়ে থাকে। এন আই ডি কার্ডে নাম, জন্ম তারিখ ও ছবি যদি ফেসবুক প্রোফাইলের তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে আইডি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এজন্য পরিষ্কার ছবি তুলে নির্দিষ্ট ফর্মের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। সঠিক তথ্য দিলে ফেসবুক সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি পর্যালোচনা করে। এতে ভুয়া ব্যবহারকারী ও প্রতারকদের আলাদা করা সহজ হয়। তাই আসল মালিক প্রমাণ করতে এন আই ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে ফেসবুক আইডি ফেরত আনতে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরী। প্রথমত এন আই ডি কার্ডটি অবশ্যই বৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত, কার্ডের ছবি ঝাপসা বা কাটা ছেঁড়া হলে ত গ্রহণ নাও করা হতে পারে। ফেসবুকের নির্দেশনা অনুযায়ী সামনে ও পেছনের অংশ স্পষ্ট ভাবে আপলোড করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যাচাই প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে। একাধিকবার ভুল তথ্য পাঠালে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সব তথ্য মিলিয়ে সাবমিট করাই সবচেয়ে ভালো। সঠিকভাবে নিয়ম অনুসরণ করলে হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার সময় না অনেকটাই নিশ্চিত হয়।
ভবিষ্যতে ফেসবুক আইডি হারানো থেকে বাঁচার উপায়
ভবিষ্যতে ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখতে হলে প্রথমেই শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা জরুরি। সহজ বা একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় ব্যবহার করলে আইডি হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার অভ্যাস করে তুললে নিরাপত্তা আরো মজবুত হয়। পাশাপাশি টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখলে অচেনা ডিভাইস থেকে লগইন ঠেকানো সম্ভব। নিজের ইমেইল ও মোবাইল নম্বর সব সময় আপডেট রাখাও খুব প্রয়োজন।
অন্যদিকে সন্দেহজনক লিংক বা ভূয়া অ্যাপ থেকে দূরে থাকায় ফেসবুক আইডি সুরক্ষার বড় উপায়। অচেনা মেসেজে থাকা লিংক ক্লিক করলে অনেক সময় আইডি ঝুঁকিতে পড়ে যায়। লগ ইন অ্যালার্ট চালু রাখলে কেউ অন্য কোথাও থেকে ঢোকার চেষ্টা করলে সাথে সাথে জানা যায়। নিয়মিত এক্টিভ সেশন ও ডিভাইস লিস্ট চেক করলে অচেনা লগইন সহজে সনাক্ত করা যায়। এসব সতর্কতা মেনে চললে ভবিষ্যতে ফেসবুক আইডি হারানোর সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।
শেষ কথা : ফেসবুক আইডি সব সময় নিরাপদ রাখা
ফেসবুক আইডি আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য স্মৃতি ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। তাই আইডির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, দুই ধাপ যাচাইকরণ চালু রাখা এবং অপরিচিত লিংক বা অ্যাপে ক্লিক না করাই নিরাপদ থাকার প্রথম শর্ত। নিয়মিত সিকিউরিটি সেটিংস চেক করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
তাই মনে করি নিজের লগইন তথ্য কখনো কারো সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। পাবলিক বা অন্যের ডিভাইসে লগইন করলে অবশ্যই কাজ শেষে লগ আউট করতে হবে। সন্দেহজনক কোন কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও ফেসবুক বা সাপোর্টে রিপোর্ট করা বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতন থাকলেই ফেসবুক আইডি সব সময় নিরাপদ রাখা সম্ভব।

ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url