ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার নিয়ম

 ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার নিয়ম 

ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার নিয়ম এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ ও নিরাপদ। ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই একাউন্ট খোলার সুযোগ পাওয়া যায় । জাতীয় পরিচয় পত্র ও মোবাইল নম্বর থাকলেই অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব। কোন শাখায় যাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হয।

ঘরে-বসে-ব্যাংক-হিসাব-খোলার-নিয়ম

বর্তমানে ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার নিয়ম অনুসরণ করলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই। ব্যাংকের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে সহজ কয়েকটি ধাপ পূরণ করলেই আবেদন সম্পন্ন হয়। যাচাই শেষে একাউন্ট সক্রিয় হয়ে যায়। এই পদ্ধতি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সবার জন্য উপযোগী।

পেজ সূচিপত্র : ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলা নিরাপদ ও ঝামেলাহীন 

ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার ধারনা ও গুরুত্ব 

ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার ধারনা বর্তমান ডিজিটাল যুগের একটি যুগান্তকারী সুবিধা। এখন আর ব্যাংকে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থাকলেই ঘরে বসে সহজে ব্যাংক অ্যাকউন্ট খোলা সম্ভব। অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র জমা দেওয়া যায়। এতে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হয়।

ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার গুরুত্ব দিন দিন আরো বাড়ছে। গ্রামাঞ্চল বা দূরবর্তী এলাকার মানুষও এখন সহজে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসতে পারছে। এতে আর্থিক লেনদেন নিরাপদ ও স্বচ্ছ হয়। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সঞ্চয়, লেনদেন ও অনলাইন পেমেন্ট অনেক সহজ হয়ে যায়। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগেও এর বড় ভূমিকা রয়েছে। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

অনলাইনে ব্যাংক হিসাব খোলার সুবিধা ও অসুবিধা 

 অনলাইনে ব্যাংক হিসাব খোলার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল সময় ও ঝামেলা কমে যাওয়া। ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে সহজে আবেদন করা যায়। ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না, যা ব্যস্ত মানুষের জন্য অনেক স্বস্তির। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে আপলোড করলেই কাজ শেষ হয়ে যায়। অনেক ব্যাংক 24 ঘন্টা এই সেবা দিয়ে থাকে, ফলে যে কোন সময় আবেদন করা সম্ভব। হিসাব খোলার প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিক ব্যালেন্স ছাড়াই হিসাব খোলার সুযোগ পাওয়া যায়। অনলাইন একাউন্টের সাথে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা যুক্ত থাকে। লেনদেনের হিসাব সহজে দেখা যায়। সব মিলিয়ে এটি আধুনিক ও সময় সাশ্রয়ী একটি ব্যবস্থা।

অনলাইনে ব্যাংক হিসাব খোলার কিছু অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক সময় ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল হলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। প্রযুক্তি সম্পর্কে অল্প ধারণা থাকলে অনলাইন ফর্ম পূরণ কঠিন মনে হতে পারে। তথ্য ভুল দিলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিছু ব্যাংকে ভিডিও KYC বাধ্যতামূলক হওয়ায় সবাই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে অনেকের মনে উদ্বেগ থাকে। সব ধরনের ব্যাংক হিসাব অনলাইন খোলা যায় না। কখনো কখনো অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে সময় বেশি লাগতে পারে। গ্রামীণ এলাকায় এই সেবা সীমিত। সরাসরি কর্মকর্তার সাথে কথা বলার সুযোগ কম থাকে। তাই সুবিধার পাশাপাশি এসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরী।

কোন্ কোন্ ব্যাংকে ঘরে বসে হিসাব খোলার সুযোগ আছে 

বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক ঘরে বসে হিসাব খোলার সুযোগ চালু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এসব ব্যাংক অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের একাউন্ট খোলার সুযোগ দিচ্ছে।  সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রাত্ত্ব ব্যাংকগুলো ধাপে ধাপে অনলাইন হিসাব খোলার সেবা চালু করছে। পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক ডিজিটাল প্লাটফর্মে বেশি এগিয়ে। এসব ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য দিয়ে আবেদন করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ভিডিও কলের মাধ্যমে KYC সম্পূর্ণ করা হয় হলে শাখায় না গিয়েই প্রাথমিক হিসাব খোলা সম্ভব হচ্ছে। গ্রাহকরা ঘরে বসেই আবেদন জমা দিতে পারছেন সময় ও খরচ দুটোই কম লাগছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং এর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। 

এছাড়াও কিছু ব্যাংক বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে পুরোপুরি অনলাইন হিসাব খোলার সুযোগ দিচ্ছে। ডাচ বাংলা ব্যাংকের Rocket অ্যাপ ও ব্র্যাক ব্যাংকের Astha অ্যাপ ব্যবহার করে সহজে হিসাব খোলা যায়। সিটি ব্যাংকের Citytouch ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের SC Mobile অ্যাপও এই সুযোগ দিচ্ছে । এসব অ্যাপে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি আপলোড করলেই আবেদন সম্পন্ন হয়। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই করে হিসাব সক্রিয় করে দেয় । অনেক ব্যাংক ঘরে বসেই ডেবিট কার্ড পাঠিয়ে দিচ্ছে কুরিয়ারের মাধ্যমে। এতে গ্রাহকদের শাখায় যাওয়ার ঝামেলা নেই। বিশেষ করে চাকরিজীবী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। অনলাইন হিসাব খোলার মাধ্যমে ব্যাংকিং এখন আরও সহজ হয়েছে।

আরও পড়ুন : সকালে খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা 

ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র 

ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য প্রথমে প্রয়োজন ব্যক্তিগত পরিচয় প্রমাণ। এটি হতে পারে জাতীয় পরিচয় পত্র বা পাসপোর্ট । এ ছাড়া ব্যাংক সাধারণত ঠিকানা প্রমাণ চায়, যেমন বর্তমান ঠিকানার বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানি বিল। যদি আপনি নতুন ঠিকানায় থাকেন, তবে ভাড়া চুক্তি বা বাড়ির মালিকের স্বীকৃতি পত্র জমা দিতে হতে পারে। অনেক ব্যাংক মোবাইল নম্বর ও ইমেল যাচাইও করতে পারে, তাই এ তথ্যগুলো সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা জরুরি। এছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আংশিক ফি বা মিনিমাম ব্যালেন্স রাখা লাগতে পারে। প্রয়োজনীয় ফর্ম গুলো ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে পূরণ করা যায়। সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হলে ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করা সহজ হয়।

ব্যাংক সাধারণত আপনার ফটোকপি বা স্ক্যান কপি চায় , তাই ডকুমেন্টগুলো স্পষ্ট এবং পাঠযোগ্য হতে হবে। সনদপত্রে মোবাইল ও ইমেইল ঠিকানা যুক্ত করলে যোগাযোগ সহজ হয়। এছাড়া আপনার ছবি বা পাসপোর্ট সাইজের ছবি অনলাইনে আপলোড করতে হতে পারে। কখনো কখনো ব্যাংক স্বাক্ষর যাচাই করার জন্য স্ক্যান করা স্বাক্ষরও চায়। যদি কোন প্রমাণপত্রে কোন ত্রুটি থাকে,  তা দ্রুত ঠিক করে জমা দিতে হবে। অনলাইনে আবেদন করার সময় কাগজপত্রের সব তথ্য সঠিকভাবে আপলোড করা গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রস্তুতি থাকলে ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলা অনেক সহজ এবং সময় সাশ্রয়ী হয়ে যায়।

জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে অনলাইনে হিসাব খোলার নিয়ম 

জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে অনলাইনে ব্যাংক বা ফাইনান্সিয়াল একাউন্ট খোলা এখন অনেক সহজ। প্রথমে নির্ভরযোগ্য ব্যাংকে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন খুলতে হবে। সাইন আপ করার পর ব্যক্তিগত তথ্য যেমন নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ এবং ফোন নম্বর সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে। এরপর জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর ও ছবি আপলোড করতে হয়। এই তথ্য যাচাই করার জন্য ওটিপি বা ভেরিফিকেশন কোড পাঠায়। কোডটি সঠিকভাবে প্রবেশ করলে আপনার তথ্য যাচাই হয়ে যায়। এরপর একাউন্টের ধরন নির্বাচন করতে হবে। শেষ পর্যন্ত সাবমিট বাটনে ক্লিক করলেই আবেদন সম্পন্ন হয়।

অ্যাপ্লিকেশন সফলভাবে জমা দেওয়ার পর ব্যাংক প্রক্রিয়াকৃত তথ্য যাচাই শুরু করে। যাচাই শেষে অনলাইনে ডেবিট বা সেভিংস অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হয় । ব্যবহারকারী এরপর লগইন করে প্রথমবারের মতো পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা পিন সেট করতে পারেন। কিছু ব্যাংক খোলার সময় প্রাথমিক আমানত অনলাইনে জমা দেওয়ার সুবিধা দেয়। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং বা ই-ওয়ালেট সেবা যুক্ত করতে হলে একাউন্টে লগইন করে প্রয়োজনীয় সেটিংস সম্পন্ন করতে হয়। তারপর আপনার অনলাইন হিসাব ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। 

মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ দিয়ে হিসাব খোলার ধাপসমূহ 

মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে হিসাব খোলা এখন অনেক সহজ এবং দ্রুত। প্রথমে আপনি নিজের স্মার্টফোন নির্ধারিত ব্যাংকের অফিসিয়াল এফটি ডাউনলোড করতে হবে। অ্যাপটি ইন্সটল করার পর নতুন ব্যবহারকারীর জন্য "সাইন আপ"  বা "নতুন একাউন্ট খোলা"  অপশনটি নির্বাচন করুন। এরপর আপনাকে ব্যক্তিগত তথ্য যেমন নাম, জন্ম তারিখ, ফোন নম্বর এবং ইমেইল ঠিকানা প্রদান করতে হবে। নিরাপত্তার জন্য একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। অনেক ব্যাংকই এই ধাপে জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর বা পাসপোর্ট এর তথ্য চায়। তথ্য পূরণের পর যাচাই করার জন্য ওটিপি বা ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হয়। কোডটি অ্যাপের নির্ধারিত স্থানে প্রবেশ করালে আপনার একাউন্ট প্রাথমিকভাবে সক্রিয় হয়ে যায়।

এরপর অ্যাকাউন্টের টাকা জমা করার ধাপ শুরু হয়। সাধারণত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপে "ডিপোজিট"  বা "টাকা যোগ করুন"  অপশন থাকে। এই ধাপে আপনি ডেভিড/ক্রেডিট কার্ড, অনলাইন ব্যাংকিং বা অন্য ব্যাংকের ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারেন। প্রথম জমা সম্পন্ন হলে আপনার ব্যালেন্স দেখা যাবে। এরপর আপনি চাইলে সেভিংস ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্যান্য সুবিধা এক্টিভেট করতে পারবেন। অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন ইতিহাস, বিল পেমেন্ট এবং ব্যাংকিং নোটিফিকেশনও পাওয়া যায়। সবশেষে নিরাপত্তার জন্য অ্যাপের লগ আউট করে রাখা এবং পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন করা জরুরী। এতে আপনার মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট সব সময় নিরাপদ থাকবে।

আরও পড়ুন : মাসে লাখ টাকা ইনকাম করার উপায় 

অনলাইনে হিসাব খোলার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলা 

অনলাইনে ব্যাংক হিসাব খোলার সময় অনেকেই কিছু সাধারণ ভুল করে বসেন, যা ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে। প্রথমত ব্যক্তিগত তথ্য ও অসম্পূর্ণ বা ভুলভাবে দেওয়া একটি বড় সমস্যা। নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ ঠিকভাবে না দেওয়া হিসাবের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে। এছাড়া দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা নিরাপত্তার জন্য বিপদজনক। ব্যক্তিগত ও ব্যাংক তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সতর্ক না থাকা অনলাইন  হ্যাকিংয়ের ঝুড়ি বাড়ায়। অনেকেই অফিসিয়াল ওয়েবসাইট না চেক করে ফেক সাইটে আবেদন করেন। সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত না থাকলেও অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় তাই সব তথ্য সাবধানে পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

অনলাইন হিসাব খোলার সময় অপর্যাপ্ত যাচাই প্রক্রিয়া ফলো করাও একটি বড় ভুল। মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল ঠিকমতো ভেরিফাই না করলে গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশন মিস হতে পারে। কখনো কখনো ব্যবহারকারীরা ব্যাংকের শর্তাবলী ও নিয়ম কানুন মনোযোগ দিয়া পড়েন না, যা ভবিষ্যতে ঝামেলার কারণ হয়। এছাড়া পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করে লগইন করা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সময় তথ্য মিলিয়ে না নেওয়াও সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সবশেষে সন্দেহজনক লিংক বা মেসেজে ক্লিক না করা নিরাপত্তা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এসব সতর্কতা মেনে চললে অনলাইনে হিসাব খোলার প্রক্রিয়া অনেক নিরাপদ ও সহজ হয়ে যায়। 

মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ব্যবহার করে একাউন্ট ভেরিফিকেশন পদ্ধতি 

একাউন্ট ভেরিফিকেশন এর অন্যতম সহজে নিরাপদ পদ্ধতি হলো মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা। ব্যবহারকারী যখন একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন, তখন তাকে তার মোবাইল নম্বরে প্রদান করতে হয়। এরপর একটি একবার ব্যবহারের কোড বা ওটিপি পাঠানো হয় সরাসরি সেই নম্বরে। ব্যবহারকারীকে সেই কোডটি সঠিকভাবে ইনপুট করতে হয়। এটি নিশ্চিত করে যে একাউন্টের মালিক আসলেই ফোনটির ব্যবহারকারী। মোবাইল ভেরিফিকেশন অনেক সময় ডাটা চুরি বা অননুমোদিত এক্সেস প্রতিরোধে সহায়ক । এছাড়া এটি লগইন বা পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রদান করে। অনেক অনলাইন সার্ভিস এখন মোবাইল ভেরিফিকেশনকে বাধ্যতামূলক করেছে। ফলে ব্যবহারকারী ও সার্ভিস উভয়ের জন্য একটি নিরাপদ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।

অন্য একটি জনপ্রিয় ভেরিফিকেশন পদ্ধতি হলো ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করা। ব্যবহারকারী একাউন্ট খোলার সময় তার ইমেইল প্রদান করেন। সিস্টেম সেই ইমেইলে একটি যাচাই লিংক বা কোড পাঠায়। ব্যবহারকারী লিংকটি ক্লিক করলে বা কোডটি প্রবেশ করালে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়।। এটি প্রমাণ করে যে ইমেইলটি সত্যিই ব্যবহারকারীই। ইমেইল ভেরিফিকেশন স্প্যাম বা ফেক অ্যাকাউন্ট প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়া নতুন পাসওয়ার্ড সেট বা গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশন পাঠানোর ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য। মোবাইলের মতো ই-মেইলও ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা বাড়ায় এবং সার্ভিসে বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করে।

আরও পড়ুন : ফ্রি টাকা ইনকাম করার উপায় 

ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার খরচ ও চার্জ সম্পর্কিত তথ্য

ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খুলতে সাধারণত বড় অংকের খরচ লাগে না। বেশিরভাগ ব্যাংক অনলাইন একাউন্ট খোলার জন্য কোন ফি নেয় না। কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিক জমা হিসেবে অল্প টাকা রাখতে হতে পারে। এই প্রাথমিক জমার পরিমাণ ব্যাংকভেদে ভিন্ন হতে পারে। অনলাইন ভেরিফিকেশন বা e-KYC সাধারণত বিনামূল্যে করা হয়। মোবাইল নম্বর ও ইমেইল যাচাইয়ের জন্য আলাদা চার্জ লাগে না। কিছু ব্যাংক ডেবিট কার্ড ইস্যুর জন্য চার্জ নিতে পারে। এই চার্জ এককালীন বা বার্ষিক হতে পারে। অনলাইন হিসাব খোলার কাগজপত্রের খরচ প্রায় থাকে না। ফলে ঘরে বসে হিসাব খোলা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। 

অনলাইন ব্যাংক হিসাব ব্যবহারে কিছু সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। এটিএম থেকে টাকা তুললে নির্দিষ্ট চার্জ কাটা যেতে পারে। মাসিক বা বার্ষিক মেনটেনেন্স ফি কিছু একাউন্টে থাকে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার সাধারণত ফ্রি দেওয়া হয়। মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারে অতিরিক্ত খরচ হয় না। অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠালে ট্রান্সফার চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। এসএমএস এলার্ট সার্ভিসে সামান্য চার্জ থাকতে পারে। ডেবিট কার্ড নবায়নে নির্দিষ্ট ফি কাটা হয়। সব চার্জ আগে থেকেই ব্যাংকের শর্তে উল্লেখ থাকে। তাই হিসাব খোলার আগে চার্জ তালিকা জানা জরুরী।

শেষ কথা: ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার ভবিষ্যৎ 

ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার ভবিষ্যৎ নিঃসন্দেহে আরো সহজ ও দ্রুত হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। আগামী দিনে কাগজপত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়ায় হিসাব খোলা সম্ভব হবে। মোবাইলে অ্যাপ ও স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার আরও বাড়বে। বায়োমেট্রিক ও ফেস ভেরিফিকেশন সিস্টেম আরও নিরাপদ হবে। গ্রাম অঞ্চলের মানুষও সমান ভাবে আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা পাবে। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও শক্তিশালী হবে।

ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে স্বচ্ছতাও বাড়বে বলে আমি মনে করি। তবে নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়েরই সম্মিলিত সচেতনাই এই ব্যবস্থাকে সফল করবে। সবমিলিয়ে ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলার ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url